বন খাতে এসডিজি
আশরাফুল আলম : পরিবেশকর্মী ও ইউটিউবার

যেকোনো দেশের মোট ভূখণ্ডের ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকার কথা থাকলেও আমাদের দেশের তা নেই। জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার ২০১৮ সালের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায় বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডের সাড়ে ১৩ শতাংশ বনভূমি। তবে এই তথ্যের সাথে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় একমত নয়। তাদের দাবি অনুযায়ী আমাদের দেশের মোট আয়তনের ১৭ শতাংশ বনভূমি রয়েছে।

জাতিসংঘের কথা সত্য হলে এ এক ঘোর অমানিশা দেশের জন্য তবে মন্ত্রণালয়ের কথা মেনে নিলেও পর্যাপ্ত বনভূমি থেকে আমাদের অনেক কম রয়েছে। এখানে সরকারকে একা দোষ দেয়ার সুযোগ নেই কেননা আমি আপনি ঠিক কতগুলো গাছ লাগিয়েছি সেটা কি বলতে পারব? একজন মানুষের প্রতিদিন নিঃশ্বাস নিতে দরকার ৮ টি পূর্নবয়ষ্ক গাছ। সেটার কটাইবা আমরা লাগাতে পেরেছি।

অন্যদিকে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করতে গেলে বাংলাদেশকে বনভূমির পরিমাণ ২২ শতাংশে নিয়ে যেতে হবে। জাতিসংঘের কাছে আমাদের দেশের সরকার এই অঙ্গীকার করেছ। সেটার কতখানি পূরন হয়েছে সেটা এখন ভাববার বিষয়।

গতকাল দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৪১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও ঢাকায় সর্বোচ্চ ৩৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস যেটি কিনা ৭ বছরে মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এরপরও আমরা গাছ লাগাবো না। সুযোগ পেলেই গাছ কাটব। যে পরিমাণে গাছ কাঁটা হয় তার অল্প পরিমাণই রোপণ করা হয়। গাছ কার্বনডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে যা মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন। এ ছাড়াও বৃষ্টিপাত ঘটাতেও সহায়ক ভূমিকা রাখে। গাছের পাতা, ডাল, বাকল, নানান ধরনের ঔষধ হিসাবেও ব্যবহার করা যায়। কিন্তু বৃক্ষ নিধনের ফলে গরমকালে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং শীতকালে বাড়ছে ঠান্ডা এবং পরিবেশ পড়ছে হুমকির মুখে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ছাদবাগান আছে এইরকম দালানের কক্ষের ভেতরের তাপমাত্রা গ্রীষ্মকালে ১.০ থেকে ১.২৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত কমায়। এছাড়া ছাদবাগান করলে আশেপাশের এলাকায় কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমান ৭০ পিপিএম পর্যন্ত কমায়। যদি ব্যাপকভাবে ছাদবাগানের প্রসার করা যায়, তবে এটি কার্বন ডাইঅক্সাইড ও অন্যান্য বায়ু দূষণকারী উপাদানের মাত্রা কমিয়ে পরিবেশ দূষণ কমাবে এবং শহরকে বাসযোগ্য করবে। এছাড়া নগর কৃষির মাধ্যমে শহরের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে জাতীয় উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সামনে আসছে গাছ লাগানোর মৌসুম। তাই আসুন নিজের যতটুকু যায়গা আছে সেখানে গাছ লাগাই। একান্তই লাগানোর যায়গা না থাকবে বারান্দা, পড়ার টেবিল ও অফিসের ডেস্কে গাছ লাগাই। তাহলে একদিকে যেমন তাপমাত্রা কমাতে সহয়তা করা হবে অনেদিকে নিজের অক্সিজেনের কিছুটা হলেও যোগান নিজেই দেয়া যাবে। এছাড়াও পরিবেশ হবে আরেকটু বেশি সতেজ যেটা কিনা মন ও চোখে জোড়াবে প্রশান্তি।

লেখকঃ পরিবেশকর্মী ও ইউটিউবার

লেখকের আরো আর্টিকেল পড়ুন : পরিবেশ রক্ষায় নগর কৃষি

টেকসই উন্নয়নে কৃষি ও পরিবেশেক সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে