ফের মাঠে পরিবেশ অধিদফতর

পরিবেশ অধিদফতর মাঠে
পরিবেশ অধিদফতর

পরিবেশ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে আবারও ব্যবস্থা নিতে করোনার মধ্যেই শুরু করেছে পরিবেশ অধিদফতর। অধিদফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা করোনার জন্য ৩ মাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পারেনি। বৈরী পরিবেশের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণীর মানুষ পরিবেশ দূষণ করেই চলেছে। এদের রুখতেই মহামারির মধ্যেই অভিযানে শুরু হয়েছে। গত ৩ মাসে পরিবেশ দূষণের ৫০টির মতো অভিযোগ পেয়েছে পরিবেশ অধিদফতর। এরমধ্যে অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ৪২টির মতো। বড় অভিযোগের মধ্যে পলিথিনের কারণে পরিবেশ দূষণ, হাসপাতালের বর্জ্য পরিশোধনাগার না থাকা, কারখানায় দূষণ উল্লেখযোগ্য৷

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হুমায়ুন কবীর বলেন, আমাদের এইখানে গত ৩ মাস প্রায় ৫০টির মতো পরিবেশ দূষণের অভিযোগ এসেছে। এর মধ্যে ৪২টি নিষ্পত্তি করা গেছে।  এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে আমরা যেগুলোর জন্য অভিযান প্রয়োজন মনে করি সেগুলো আমাদের এনফোর্সমেন্ট শাখায় পাঠাই। তারা তখন সে অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি জানান, ঢাকা ছাড়াও, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহী থেকেও আমরা অভিযোগ পাই। এসব অভিযোগ আমরা বিভাগীয় কার্যালয়ে পাঠাই সেখানে তারাও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেন। তিনি বলেন, এনফোর্সমেন্ট শাখা বা বিভাগীয় শাখাগুলো অভিযোগ নিষ্পত্তির পর সেগুলো আমাদের আবার জানায়।
তিনি জানান, এর বাইরেও আরও কিছু অভিযোগ আমরা পাই। বনের গাছ কাটা হচ্ছে, রাস্তার ধারের গাছের ক্ষতি করছে এমন ধরনের অভিযোগও আমরা পাই। সেগুলো আমরা সাধারণত বন বা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে পাঠাই। সেগুলোর ফিডব্যাক আমরা পাই না।

চলতি মাসের ২৫ আগস্ট ময়মনসিংহের চারটি হাসপাতাল  ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার ছাড়া পরিবেশগত ছাড়পত্র না নিয়ে হাসপাতাল করায় ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর আগের ২৪ আগস্ট চকবাজারের ইসলামবাগের দুইটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৬০০০ কেজি পলিথিন ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ২৩ আগস্ট আশুলিয়ায় একটি অটোরাইস মিলকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া কারখানা স্থাপনের দায়ে এই জরিমানা করা হয়। ১৮ আগস্ট মুন্সিগঞ্জের ৩টি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে পরিবেশগত ছাড়পত্র না নিয়ে হাসপাতাল করায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং গাজীপুরের ১ কারখানাকে ১ লাখ ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ১৬ আগস্ট পরিবেশগত ছাড়পত্র না নিয়ে হাসপাতাল করায় উত্তরের একটি হাসপাতালকে ৫ লাখ টাকা এবং  ডেমরার একটি হাসপাতালকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ১০ আগস্ট পরিবেশ দূষণের দায়ে ঢাকা, নরসিংদী,  নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুর জেলার চারটি কারখানাকে ২৭ লাখ ৩৯ হাজার ৪০ টাকা জরিমানা করা হয়।

অধিদফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমেদ বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। করোনাভাইরাসের কারণে মার্চের পর তিন মাস আমরা অভিযান পরিচালনা করতে পারেনি। এই সুযোগ নিয়েছে অনেক কারখানা। আর সুযোগ পাবে না পরিবেশ দূষণকারীরা। জুলাই থেকে আমরা পুরোদমে আবার কাজ শুরু করেছি। প্রতি সপ্তাহেই দুই থেকে তিনটি অভিযান করা হয়। এছাড়া বিভাগীয় কার্যালয়গুলোও অভিযান চালাচ্ছে।

 

Leave a Reply