ফাহিম হত্যাকাণ্ড সন্দেহে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী গ্রেপ্তার 

ফাহিম সালেহ হত্যাকাণ্ড
ফাহিম সালেহর ব্যক্তিগত সহকারী টাইরেস ডেভোন হাসপিল (২১) গ্রেপ্তার

পাঠাওয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা তরুণ উদ্যোক্তা ফাহিম সালেহ (৩৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী টাইরেস ডেভোন হাসপিলকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে নিউইয়র্কের পুলিশ। নিউইয়র্ক সময় শুক্রবার ভোরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ফাহিম হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হচ্ছে। গোয়েন্দারা ধারণা করছেন, ফাহিম সালেহর বোন যখন ওই অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকছিলেন, হত্যাকারী তখন লাশ টুকরা করছিলেন। এ কথা জানিয়েছে মার্কিন দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পুলিশ সংবাদ সম্মেলন করে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানোর কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন :- ট্রাকে আটক ৬৪ বাংলাদেশি অভিবাসী

মঙ্গলবার ম্যানহাটানে নিজের কেনা অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ফাহিম সালেহর লাশ উদ্ধার করা হয়। ইলেকট্রিক করাত দিয়ে তাঁর লাশ টুকরা টুকরা করে প্লাস্টিকে ব্যাগে ভরানো ছিল।

আরও পড়ুন :- যেখানে ২৪০০০ মানুষের ২ হাজারই বাংলাদেশি

গোয়েন্দারা ধারণা করছেন, প্রায় ৪ বছর সে কাজ করেছে ফাহিমের সঙ্গে। কিন্তু কিছুকাল আগে টাইরেস অ্যাডভেঞ্চার ক্যাপিটালের তহবিল থেকে প্রায় ১ লাখ ডলার সরিয়ে ফেলে এবং এক পর্যায়ে তা ফাহিমের কাছে ধরা পড়ে যায়। এই ঘটনার পর ফাহিম তাকে চাকরিচ্যুত করেন এবং চুরিকৃত টাকা কয়েক কিস্তিতে ফেরত দেয়ার জন্য একটা সময়সীমা বেঁধে দেন।

আরও পড়ুন :- ট্রাকে আটক ৬৪ বাংলাদেশি অভিবাসী  

আরও পড়ুন :- সৌদিতে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ

একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ফাহিম সালেহকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কোপানোর আগে কোনো কিছু দিয়ে আঘাত করে তাঁকে অচেতন করা হয়েছিল। হত্যাকারী কালো রঙের স্যুট, সাদা শার্ট ও টাই এবং কালো মাস্ক পরে ফাহিম সালেহর পেছন পেছন ওই অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকেছিলেন। এ সময় হত্যাকারীর হাতে একটি ব্যাগও ছিল। লিফটের ভেতর থেকে সংগৃহীত সিকিউরিটি ক্যামেরা থেকে সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হত্যাকারী নিজের উপস্থিতি এড়ানোর জন্য বিশেষ কৌশলে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করেন।

আরও পড়ুন :- মালদ্বীপে বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিক্ষোভ

এর আগে নিউইয়র্ক সিটির সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা জানান, ফাহিম সালেহর গলা ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর চিহ্ন রয়েছে। এতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন কর্মকর্তা এই হত্যাকাণ্ডকে ‘পেশাদার খুনির মতো কাজ’ বলে উল্লেখ করেছেন।

ফাহিম সালেহ
ফাহিম সালেহ

তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, হত্যাকারী যখন ফাহিম সালেহর শরীর টুকরা টুকরা করে ব্যাগে ভরছিলেন, তখন তাঁর বোন ওই অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকছিলেন। অ্যাপার্টমেন্টের লবিতে পৌঁছালে হত্যাকারী বিষয়টি টের পান, তখন অ্যাপার্টমেন্টের পেছনের দরজা ও সিঁড়ি দিয়ে হত্যাকারী বেরিয়ে যান।

ফাহিম সালেহর জন্ম ১৯৮৬ সালে। তাঁর বাবা সালেহ উদ্দিন চট্টগ্রামের, আর মা নোয়াখালীর মানুষ। ফাহিম পড়াশোনা করেছেন আমেরিকার বেন্টলি ইউনিভার্সিটিতে ইনফরমেশন সিস্টেম নিয়ে। তিনি রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাওয়ের অন্যতম উদ্যোক্তা। ২০১৪ সালে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকায় এসে পাঠাও চালু করে নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন তিনি। ফাহিম নাইজেরিয়া ও কলম্বিয়ায় এমন আরও দুটি রাইড শেয়ারিং অ্যাপ কোম্পানির মালিক। ইন্দোনেশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশেও তিনি ব্যবসা বিস্তৃত করেছিলেন।

 

1 মন্তব্য

Leave a Reply