ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পতনের রেশ কাটিয়ে আবারও সূচক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ফিরে এসেছে। গত সপ্তাহের শেষ তিন কার্যদিবসে ঊর্ধ্বমুখী ছিল সূচক। একই সঙ্গে সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটদর বাড়তে দেখা গেছে । তবে এতে স্বস্তিতে নেই সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তারা এটাকে আইওয়াশ বলে অ্যাখ্যায়িত করেছেন। বিনিয়োগকারীরা একটি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল পুঁজিবাজার চান।

বাজার পরিস্থিতিতে দেখা যায়, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক বৃদ্ধি পায় ১৩ পয়েন্ট। দিন শেষে সূচকের অবস্থান ছয় হাজার ৯৯৫ পয়েন্টে। একইভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বাজার মূলধনও। গত বৃহস্পতিবার নিয়ে তিন দিনে বাজার মূলধন বাড়তে দেখা গেছে ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি।

এদিকে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ালেও স্বস্তিতে নেই বিনিয়োগকারীরা। তাদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি কাজ করছে। কারণ বেশ কিছুদিন ধরে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা নেই। ফলে বারবার বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও তা পারছে না।

বিষয়টি নিয়ে কথা বললে মো. জালাল উদ্দীন নামের এক বিনিয়োগকারী বলেন, গত কয়েকদিনের পতনে আমাদের বেশ লোকসান হয়েছে। ফলে সম্প্রতি বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও এতে আমাদের স্বস্তি ফেরেনি। কারণ এর আগেও বাজার ঘুরে দাঁড়াতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন সংশ্লিষ্টদের কথা শুনে অনেকেই আমার মতো পুঁজিবাজারে নতুন বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু তারা সুবিধা করতে পারেননি।

একই বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘পুঁজিবাজারে সূচকের হ্রাস বৃদ্ধির বিষয়টি খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের দেশের বিনিয়োগকারীরা সহজে বিচলতি হয়ে পড়েন। ফলে পেনিক সেল বেড়ে যায়। তাই পতন নেমে আসে। কিন্তু তার আগে দেখতে হবে বিনিয়োগকারীরা কেন পেনিক সেল করেন। বাজারে যখন জুয়াড়িদের আধিপত্য বেড়ে যায় ঠিকই তখনই এ ধরনের পরিস্থিতি হয়। তাই সবার আগে এদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তাহলে বাজার এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে। এতে বাজারের পরিবেশও ভালো হবে।’