পরিবেশকর্মী আশরাফুল আলম

এক দশক ধরে পরিবেশকর্মী হিসেবে কাজ করছেন মোঃ আশরাফুল আলম। প্রকৃতি প্রেমী এই যুবক এরই মধ্যে সুপরিচিতি পেয়েছেন তার বেশ কিছু অসাধারণ কাজের জন্য। দেশ সমাচারে তাকে নিয়ে লিখেছেন ফজলে রাব্বি।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে ২০১১ সালে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন আশরাফুল আলম। তখন থেকেই পাঠ্যাপুস্তকের মলাটে নিজেকে বেঁধে না রেখে, যুক্ত করেছেন নানান সামাজিক কার্যক্রমে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালে যোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি আর্থকেয়ার ক্লাবের সাথে।

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি আর্থকেয়ার ক্লাবে যোগ দিয়েই আশরাফুল ২০১২ সালে ধানমন্ডি এলাকায় ময়লা ফেলার বাক্স রাখার উদ্যোগ নেন। আর্থকেয়ার ক্লাবের এমন উদ্যোগ বেশ প্রশংসিত হয় সেসময়। বর্তমানে নগরীর বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ময়লা ফেলার বাক্স চোখে পড়ে, আট বছর আগে এমন দৃশ্য সচরাচর চোখে পড়েনি। ক্লাবের প্রধান সমন্বয়ক এবং অন্যান্য সদস্যের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ  করেন আশরাফুল।

ঢাকার রাস্তায় নিত্য যাদের চলাচল, তারা জানেন এখানে শব্দদূষণের ব্যাপকতা। হাসপাতাল কিংবা স্কুলের সামনেই হোক না কেন, খামখেয়ালি আর স্বেচ্ছাচারী চালকদের হাতে পড়ে বিরাম নেই হর্ন যন্ত্রের। ৪৫ ডেসিমেলের ওপর হর্ন বাজানো যাবে না’, ‘স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালের সামনে হর্ন বাজানো যাবে’ না কিংবা ‘প্রয়োজন ছাড়া অহেতুক হর্ন বাজানো উচিত নয়’— শব্দদূষণ কমাতে প্রতিটি গাড়ির সামনে গিয়ে ফেস্টুন আর প্ল্যাকার্ডে লেখা এ কথাগুলে তুলে ধরেন আর্থকেয়ার ক্লাবের সদস্যরা।

শব্দ দূষণ নিয়ে এই কার্যক্রমটিরও মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন আশরাফুল। এছাড়া পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন যেমন বাপা, পবা, সবুজপাতা, ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ, বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার ইত্যাদি সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে পরিবেশ সহায়ক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন তিনি।

এছাড়াও বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি, স্কুল-কলেজে পরিবেশ বিষয়ক প্রশ্ন নিয়ে কুইজ অনুষ্ঠান, পরিবেশ বিষয়ক মঞ্চ নাটিকা কিংবা প্ল্যাকার্ড হাতে শব্দদূষণ রোধের জন্য মানববন্ধনের মতো কর্মসূচিতে ক্লাবের পক্ষ থেকে অংশ নিয়েছেন বহুবার।

পণ্য কিংবা প্রতিষ্ঠানের প্রচারণায় গাছের গায়ে লোহা পিটিয়ে একটি বিজ্ঞাপন ঝুলিয়ে দেয়ার গল্পটা অনেক পুরনো। বিশেষ করে ঢাকার রাস্তায় হরহামেশা এমন দৃশ্য নজরে পড়বে পথচারীদের। ২০১৩ সাল থেকে ধানমন্ডি এলাকার গাছ থেকে এমন কিছু বিজ্ঞাপন খুলে ফেলেছেন সবুজপাতা, বাপা ও আর্থকেয়ার ক্লাবের সদস্যরা। এই আয়োজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেছেন আশরাফুল আলম।

এরই ধারাবাহিকতায় তিনি সাধারন সদস্য থেকে গনসংযোগ সম্পাদক, কার্যনির্বাহী সদস্য এবং সবশেষে হয়েছেন ক্লাবের সভাপতি। পেয়েছেন সেরা সেচ্চাসেবকের পুরষ্কার। ব্যাক্তি জীবনে ভালোবাসেন ভ্রমণ করতে। সেই ভ্রমণপ্রেম থেকেই প্রতিষ্ঠা করেন ভ্রমণীয় নামের ঘুরে বেড়ানোর প্ল্যাটফর্ম।

বর্তমানে আশরাফুল মার্কেটিং কমিউনিকেশান পেশায় কর্মরত আছেন দেশের অন্যতম বহুজাতিক কোম্পানি এসিআই লিমিটেডে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অবসর সময়ে তিনি পরিবেশ, কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছেন।

আশরাফুল আলমের আর্টিকেল পড়ুন-

টেকসই উন্নয়নে কৃষি ও পরিবেশেক সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে

পরিবেশ রক্ষায় নগর কৃষি