করোনার কারণে চলতি আন্তর্জাতিক বিরতিতে ব্রাজিলের হয়ে খেলতে যাননি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা মূল দলের ৯ ফুটবলার।

নিজেদের ফুটবলাররো না আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে ফিফার কাছে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আপিল করে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)। সিবিএফের আর্জিকে গুরুত্ব দিয়ে সেসব ফুটবলারকে পাঁচ দিনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। তবে একজনকে বাদ রেখে আটজনের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানটি। নিষিদ্ধ হওয়া আট খেলোয়াড় হলেন- রবার্তো ফিরমিনো, ফ্যাবিনিও, আলিসন বেকার, এডেরসন, গ্যাব্রিয়েল জেসুস, ফ্রেড, থিয়াগো সিলভা, রাফিনিয়া।

শাস্তি থেকে রেহাই পেয়েছেন ব্রাজিলের তরুণ ফরোয়ার্ড রিচার্লিসন। এভারটন ক্লাবে খেলা এই তরুণ তারকা কেন শাস্তির আওতায় পড়েননি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সেকাওদের ‘তরুণ নেইমার’ মানা হয় রিচার্লিসনকে। কোপা আমেরিকায় দুর্দান্ত খেলেছেন তিনি। ফাইনালে আর্জেন্টিনার জালে বলও জড়িয়েছিলেন। যদিও অফসাইড নিয়মে তা বাতিল হয়ে যায়। দেশকে কোপার শিরোপা এনে দিতে ব্যর্থ হলেও অলিম্পিকের সোনা ঠিকই উপহার দিয়েছেন।  টোকিও অলিম্পিক ফুটবলে ব্রাজিলের হয়ে খেলেছিলেন এই তারকা। নেইমারের অনুপস্থিতিতে রিচার্লিসন ১০ নম্বর জার্সি পরে মাতিয়েছেন অলিম্পিক। সেই আসরে ব্রাজিলের সোনা জেতার অন্যতম নায়ক ছিলেন তিনি। রিচার্লিসনের এসব পারফরম্যান্সের বিবেচনায় তার প্রতি বেশ নমনীয় সিবিএফ। এসব কারণেই রিচার্লিসনের প্রতি নমনীয়তা দেখিয়েছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন।

উল্লেখ্য, সাধারণত আন্তর্জাতিক বিরতিতে ফুটবলারদের ছাড়তে কোনো বাধা দেয় না ক্লাবগুলো। কিন্তু করোনায় জেরবার লাতিন আমেরিকার দেশগুলো এখনও ইউরোপের লাল তালিকাভূক্ত। যে কারণে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের খেলার বিষয়ে এসব দেশের খেলোয়াড়দের শর্ত জুড়ে দিয়েছিল ইংলিশ ক্লাবগুলো। কারণ দেশের খেলা শেষে ক্লাবের হয়ে ফের খেলতে হলে আগে ১০ দিনের আইসোলেশনে থাকতে হবে।

কিন্তু শর্ত উপেক্ষা করেই জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামেন চার আর্জেন্টাইন ফুটবলার। তবে ব্রাজিলের এই ৯ ফুটবলার দেশেই যাননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ফিফার কাছে তাদের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে তারা আপিল করেছিল সিবিএফ। ফিফাও তাদের আপিল আমলে নিয়েছে। সে হিসাবে আগামী ১০ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিচার্লিসন ছাড়া বাকি আট খেলোয়াড় কোনো ম্যাচ খেলতে পারবেন না।