পৃথিবীতে প্রতি বছর স্ট্রোকে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হন। এতে মৃত্যুহারও সর্বোচ্চ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে দ্বিতীয় প্রধান মৃত্যুর কারণ স্ট্রোক। প্রতি বছর ১ কোটি ৩৭ লাখেরও বেশি মানুষ বিশ্বব্যাপী স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশ রোগী মৃত্যুবরণ করেন। দেশে হাজারে ১১ জন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়। অথচ উন্নত বিশ্বে স্ট্রোকে আক্রান্ত হাজারে ২ থেকে ৩ জন।

বাংলাদেশে দিন দিন স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে সর্বাধিক ঝুঁকিতে আছে মাদকাসক্তরা। আর নারীর চেয়ে পুরুষের স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। স্ট্রোকের জন্য উচ্চ রক্তচাপ ৫০ ভাগ দায়ী । ২৩ শতাংশের জাঙ্কফুডে আসক্তি ও ৩৬ শতাংশের অনিয়মিত জীবনযাপন এবং ১৭ শতাংশের মানসিক চাপের কারণে স্ট্রোক হয়। দেশের ময়মনসিংহ জেলায় স্ট্রোকের হার সবচেয়ে বেশি। আর স্ট্রোকের ঝুঁকি সবচেয়ে কম রাজশাহীতে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালের নিউরোলজি বিশেষজ্ঞরা এক বছর ধরে ঝুঁকি বেশি দেশের আট জেলায় গবেষণা চালিয়ে এসব তথ্য পেয়েছেন। হাসপাতালের পরিচালক নিউরোলজি বিশেষজ্ঞরা অধ্যাপক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ, যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. বদরুল আলম এ গবেষণা পরিচালনা করেন।

আরও পড়ুন:- শরীরের নির্গমনকারী অঙ্গানু কিডনি’র আদ্যপান্ত

অধ্যাপক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ বলেন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ব্যায়াম করলে স্ট্রোক থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। বছরে দুবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাই উত্তম। তবে কমপক্ষে বছরে একবার শারীরিক পরীক্ষা করতেই হবে। আর স্ট্রোকে যেসব উপসর্গ দেখা দেয় সেগুলো জানতে হবে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ শুক্রবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব স্ট্রোক দিবস। বিশ্বব্যাপী স্ট্রোক প্রতিরোধ ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিশ্ব স্ট্রোক সংস্থা প্রতি বছর ২৯ অক্টোবর এ দিবসটি পালন করে।

স্ট্রোক রোগকে অনেকে হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। এটি মূলত মস্তিস্কের রোগ। মস্তিস্কের কোনো স্থানের রক্তনালি সরু বা একেবারে বন্ধ হয়ে গেলে ওই স্থানে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মস্তিস্কের ওই বিশেষ এলাকা কাজ করতে পারে না। এটিই স্ট্রোক। স্ট্রোকে আক্রান্তের দুই-তৃতীয়াংশই মারা যান বা চিরতরে পঙ্গু হয়ে যান। এ রোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। ফলে দেশে দ্রুত স্ট্রোক বাড়ছে।

নিউরোলজি বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্ট্রোক হলো মানুষের মস্তিষ্কের রক্তনালির একটি রোগ। যাতে হঠাৎ করে সেই রক্তনালি বন্ধ হয়ে অথবা ছিঁড়ে গিয়ে মস্তিষ্কের একটা নির্দিষ্ট অংশের কার্যকারিতা বন্ধ হয়ে যায়। ষাটোর্ধ্ব বয়সে স্ট্রোকের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, নারীদের তুলনায় পুরুষের ঝুঁকি আরও বেশি। একবার স্ট্রোক হলে ভবিষ্যতে সেই ঝুঁকি আরও বাড়ে। এ ছাড়া অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ, ডায়াবেটিকস, রক্তের উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল, হার্টের অসুখ, ধূমপান, তামাকজাত ও নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ, কায়িক পরিশ্রমের অভাব, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং স্থূলকায় শরীর স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।