নারায়ণগঞ্জে মসজিদের এসি বিস্ফোরণ
নারায়ণগঞ্জে মসজিদের এসি বিস্ফোরণ।ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি মসজিদে এশার নামাজ পড়ার সময় এসি বিস্ফোরণে ইমাম মোয়াজ্জেমসহ প্রায় ৪০ জন দগ্ধ হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৭ জনকে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগেরই অবস্থা আশংকাজনক। শুক্রবার  রাত ৯টায় ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা বাইতুস সালাত জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

মসজিদ কমিটির সভাপতি গফুর মিয়া জানান, রাত ৯টায় এশার নামাজ পড়ার সময় মসজিদে থাকা ৬টি এসি বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় মসজিদের ভিতরের জানালা গুলো ভেঙ্গে চুরমার হয়ে ভিতরে বাহিরে ধোয়ায় ডেকে যায়। তখন আমি বাহিরে ছিলাম আর আমাদের মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি হান্নান মিয়া মসজিদের ভিতর নামাজে ছিল। তখন দ্রুত আমিসহ এলাকাবাসী এগিয়ে এসে মসজিদের ইমাম মাওলানা মালেক নেসারী, মোয়াজ্জেম দেলোয়ার হোসেন, হান্নান মিয়াসহ প্রায় ৪০ জনকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে শহরের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করি। সেখান থেকে অনেককেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে প্রেরণ করেছে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক।

নারায়ণগঞ্জে মসজিদের এসি বিস্ফোরণ

                                                                       ফাইল ছবি

তিনি আরও বলেন, দগ্ধদের মধ্যে অনেকেরই মুখ মণ্ডল ও শরীর ঝলসে গিয়ে চামড়া উঠে গেছে। আহতদের মধ্যে অনেকেই হাত পা কেটে প্রচুর রক্তাক্ত হয়েছে। মসজিদের ফ্লোর রক্তে ভেসে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মসজিদটিতে দেড় থেকে দুইশ’ মুসল্লি এশার নামাজে অংশ নেন। জামাত শেষে মুসল্লিরা যখন সুন্নত নামাজ আদায় করছিলেন তখন একটি এসি বিস্ফোরিত হয়। এতে অন্তত ৪০ জন আহত হন।

আরও পড়ুন- নারায়ণগঞ্জে করোনায় নারীর মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার নাজমুল হোসেন জানান, রাত ৯টা হতে একের পর এক রোগী আসছিল। তাদের সবার নাম লিপিবদ্ধ করা হয়নি। যেসব রোগী এসেছে তাদের ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ দগ্ধ হয়েছে। তাদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা পাঠানো হয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারাসহ পুলিশ গিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত বলতে পারবো।