নতুন মধ্যপ্রাচ্যের সকাল: ট্রাম্প

ইসরায়েলের মধ্যপ্রাচ্যে সকাল নতুন

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তির দিনটিকে ইসরায়েলের মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সকাল বলে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই উপসাগরীয় দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখার একথা বলেন ট্রাম্প।

আরব আমিরাত, ইসরায়েল ও বাহরাইন তিন দেশের মত ট্রাম্পও এই চুক্তিকে ঐতিহাসিক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতাতেই এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। খবর বিবিসির।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানান, যথাসময়ে সৌদি আরবও একই পথে হাঁটতে যাচ্ছে। এদিকে, চুক্তিগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছে ফিলিস্তিনিরা।

১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্ম হওয়ার পর বাহরাইন ও আরব আমিরাত তৃতীয় ও চতুর্থ উপসাগরীয় দেশ হিসেবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিল। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন যে অন্যান্য দেশও তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তবে ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বন্দ্বের সমাধান হওয়ার আগ পর্যন্ত সেরকমটা যেন না হয় সেই আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিন।

বছরের পর বছর ধরে সিংহভাগ আরব দেশ ইসরায়েলকে বয়কট করে এসেছে। আরব দেশগুলোর বক্তব্য ছিল ফিলিস্তিনের সঙ্গে ইসরায়েলের বহু বছর ধরে চলা দ্বন্দ্বের সমাধান হলেই কেবল তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবে।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘কয়েক দশকের বিভক্তি এবং সংঘাতের পর আমরা মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সকাল উত্থানের সূচনা করছি।আজ আমরা এখানে জড়ো হয়েছি ইতিহাস বদলে দিতে।’

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘এই দিনটি ইতিহাস পরিবর্তনের ক্ষণ, শান্তির নতুন দিগন্তের সূচনা।’

আরো পড়ুন- সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত

ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ‘অধিকৃত অঞ্চল থেকে ইসরায়েল সরে গেলেই কেবলমাত্র মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। ইসরায়েলের অধিগ্রহণের সমাপ্তি না হলে ওই অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা ফিরবে না।’

আরব আমিরাত ও বাহরাইনের আগে মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়া দেশ ছিল শুধুমাত্র মিশর ও জর্ডান, যারা ১৯৭৮ ও ১৯৯৪ সালে ইসরায়েলের সাথে শান্তি চুক্তি করেছিল।

এখন দেখার বিষয় উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশ, বিশেষ করে সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও বাহরাইনের পদাঙ্ক অনুসরণ করে কি না। এখন পর্যন্ত সৌদি আরব ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা এ ধরণের কোনো চুক্তি করতে প্রস্তুত নয়।

এই চুক্তির ফলে মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে হওয়া পারস্পরিক সম্পর্কের জের ধরে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ভারসাম্যেও পরিবর্তন আসতে পারে। ইসরায়েলের পাশাপাশি বেশকিছু আরব রাষ্ট্রেরও ইরানের সাথে শত্রুভাবাপন্ন সম্পর্ক রয়েছে।

ফিলিস্তিনিরা মনে করছে এই চুক্তি করে তাদের সঙ্গে ভয়াবহ বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। আরব দেশগুলোর মধ্যে বহু বছরের একটা ঐকমত্য ছিল। সেটি হচ্ছে, ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক একমাত্র ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার মাধ্যমেই হতে পারে। ফিলিস্তিনিরা বলছে এই চুক্তি করে উপসাগরীয় দেশগুলো ওই প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করেছে।

এদিকে, ফিলিস্তিনিরা চুক্তিগুলোর সমালোচনা করলেও বাহরাইন ও আমিরাত জানিয়েছে, তারা ফিলিস্তিনিদের ছেড়ে যায়নি। পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা মিলিয়ে ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্রের দাবির প্রতি তাদের সমর্থন জারি রয়েছে বলে জানায় দুই দেশের কর্মকর্তারা।

জানুয়ারি মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বিতর্কিত’ প্রস্তাবিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পশ্চিম তীরের বড় একটি অংশ ইসরায়েলের সীমানাভুক্ত করার কথা ছিল। ফিলিস্তিনিরা ট্রাম্পের প্রস্তাবকে ইসরায়েলের প্রতি পক্ষপাত বলে অভিযোগ করেছিল এবং সতর্ক করেছিল যে ওই সংযুক্তির ফলে ভবিষ্যতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা নষ্ট হবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হবে।

 

1 মন্তব্য

Leave a Reply