দাঁত ব্রাশ

অনেকে খাবার গ্রহণের ঠিক পরপরই বিশেষ করে রাতে দাঁত ব্রাশ করে থাকেন।তারা ভাবেন হয়ত এতে মুখগহ্বর ও দাঁতে লেগে থাকা খাবারের অবশিষ্টাংশ দ্রুত পরিষ্কার হয়। কিন্তু না,এতে উপকারের থেকে বরং অপকারই হয়।কিভাবে? আসুন জেনে নেই মেডিকেল সাইন্স এটি নিয়ে কি বলছে।

আমাদের মুখগহ্বরে স্বভাবতই বসবাস কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়ার। এসব ব্যাকটেরিয়া কোন ক্ষতিই করে না আমাদের যতক্ষণ না উপযুক্ত কোন পরিবেশ না পায়।আর এই উপযুক্ত পরিবেশ হল খাবার গ্রহণের পর। খাবার গ্রহণের পর যে অবশিষ্টাংশ দাঁতে লেগে থাকে,তাতে ব্যাকটেরিয়া এসে আক্রমণ করে গাঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবশিষ্টাংশ থেকে এসিড নিঃসৃত করে।বিশেষ করে স্যুগার, সফট্ ড্রিংকস ও কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার ব্যাকটেরিয়ার পছন্দের তালিকার শীর্ষে। তাছাড়া যেসব খাবার বা ফল সাইট্রাস এসিড সমৃদ্ধ যেমন লেমন, অরেঞ্জ ইত্যাদি,ফসফরিক এসিড ধারণ করে এমন কিছু সফট্ ড্রিংকস গ্রহনের পরপর ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে নিঃসৃত এসিডের প্রভাবে কিছুক্ষণের জন্য দাঁতের সবচেয়ে বহিঃআবরন সাদা বর্ণের এনামেল কিছুটা দূর্বল ও নরম অবস্থায় থাকে।

এই পরিবেশে প্রতিরক্ষার কাজ করে মুখগহ্বরে অবস্থান করা লালা।লালা একটি অম্লধর্মী তরল পদার্থ যা নিঃসৃত এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে নিরপেক্ষ পরিবেশ সৃষ্টি করে মুখগহ্বরে। ফলশ্রুতিতে সাময়িক দূর্বল হয়ে যাওয়া দাঁতের এনামেল তার পূর্বেকার মজবুত অবস্থায় ফিরে আসে। এমতাবস্থায় খাবার গ্রহণের পর মুখগহ্বরে লালার কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই দাঁত ব্রাশ করা মানে সাময়িক দূর্বল হয়ে যাওয়া এনামেলকে আরো দূর্বল করে ফেলা।

অর্থাৎ উপকার করতে গিয়ে দাঁতের এনামেলের বারোটা বাজিয়ে ফেলা।আর ক্রমান্বয়ে এই এনামেল দূর্বল হয়ে যাওয়া মানে দাঁত ক্ষয়, ক্যাভিটি তৈরি, দাঁতে শিরশির অনুভূতি ইত্যাদি।

এই দিকটি লক্ষ্য করে সাধারণত বলা হয়,খাবার খাওয়ার কমপক্ষে আধ বা এক ঘন্টা পর ব্রাশ করা যাতে লালা তার স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা কার্যক্রম করার পর্যাপ্ত সময় পায়। দিনে দু’বার ব্রাশ করা উচিত।রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এবং সকালে নাস্তার পর।তবে সবচেয়ে জরুরি রাতে ঘুমানোর আগে ব্রাশ। রাতে দীর্ঘক্ষণ আমরা ঘুমানোর কারণে মুখ ও মুখগহ্বরে কোন এক্টিভিটি থাকে না,এক্টিভিটি না থাকার দরুণ লালার উপস্থিতিও কম থাকে।আর এই সময়টাই খালি মাঠে গোল দেয়ার মত পরিবেশ পেয়ে যায় ব্যাকটেরিয়ারা।

লেখক: ডা. মাহিদুর রহমান সা’দ,
ওরাল এন্ড ডেন্টাল সার্জন, ডিটেইল ডেন্টা
(ডেন্টাল এন্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সেন্টার)