বাংলাদেশে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে প্রায় ৯ শতাংশ মুখগহ্বরের ক্যান্সারের শিকার। মুখগহ্বর ও দাঁতের অযত্ন এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাসসহ বিভিন্ন কারণে মুখগহ্বরের ক্যান্সার হয়ে থাকে। ক্যান্সার সৃষ্টিকারী বিভিন্ন কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হল আঁকাবাঁকা দাঁত এবং দাঁতের ধারালো প্রান্ত থেকে সৃষ্ট ক্ষত বা আলসার যা সঠিক চিকিৎসার অভাবে দীর্ঘসূত্রিতায় ক্যান্সারে রুপান্তর।

বিভিন্ন কারণে ক্রয়প্রাপ্ত দাঁত এবং আঘাতে ভেঙে যাওয়া দাঁতের বিভিন্ন অংশে প্রায়ই ধারালো প্রান্তের সৃষ্টি হয়। খাবার গ্রহণ এবং কথাবার্তার সময় এই ধারালো অংশের মাধ্যমে মুখগহ্বরের গালে, জিহ্বায়, ঠোঁটে, মাড়িতে কামড় লেগে ক্ষত বা আলসারের সৃষ্টি হয়, অনেক সময় কামড় লাগার স্থান ফুলে যায়। এমতাবস্থায় দাঁতের ধারালো অংশের চিকিৎসা না হলে কামড়ের কারণে বারংবার ক্ষত বা আলসারের সৃষ্টি হয়। চিকিৎসা গ্রহণ ব্যতিরেকে দীর্ঘমেয়াদি এই আলসার পরবর্তীতে ক্যান্সারে রুপান্তরিত হয়।

তাছাড়া আঁকাবাঁকা দাঁত বিশেষ করে উপরের চোয়ালের আক্কেল দাঁত অনেক সময় সঠিক অবস্থান থেকে সরে গিয়ে বাঁকা হয়ে উঠে যার দরুন পাশবর্তী গালে, নিচের মাড়িতে ও জিহ্বায় কামড় পরে। এভাবে সৃষ্ট ক্ষত বা আলসার থেকে পরবর্তীতে ক্যান্সারে রুপান্তরিত হয়।

প্রতিকারঃ
এধরনের সমস্যায় একজন বিডিএস ডিগ্রিধারী ডেন্টাল সার্জনের শরণাপন্ন হতে হবে। ডেন্টাল সার্জন যে চিকিৎসাগুলো করবেন-
১. দাঁতের ধারালো অংশ মসৃণ করে দিবেন।
২. দাঁতের কোন অংশ ভেঙে গিয়ে থাকলে ক্রাউন (ক্যাপ) বা ফিলিং করবেন।
৩. দাঁত আঁকাবাঁকা থাকলে অর্থোডন্টিকস চিকিৎসার মাধ্যমে সমাধান করবেন।
৪. আক্কেল দাঁত বাঁকা হয়ে উঠলে ক্ষেত্রবিশেষে মসৃণ করে দিবেন, আক্রান্ত মাড়ির অংশ কেঁটে দিবেন বা দাঁত অপসারণ করবেন।

ডা. মাহিদুর রহমান সা’দ,
ওরাল এন্ড ডেন্টাল সার্জন, ডিটেইল ডেন্টা, (ডেন্টাল এন্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সেন্টার) নিউ ল্যাব ওয়ান ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, স্টেডিয়াম রোড,চাঁদপুর। যোগাযোগঃ ০১৭৫৬৫৮৬২১১