এবার একসঙ্গে তিন থানার ওসি ক্লোজড

চাকরি হারাচ্ছেন ২৬ পুলিশ

মেজর (অব.) সিনহা নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার তার সহযোগী সিফাতের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে লাঠিপেটা ও এক এএসআইকে থাপ্পড় মারার ঘটনায় বরগুনার বামনা থানার ওসি ইলিয়াস আলী তালুকদারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বামনা থানার ওসি ইলিয়াস প্রত্যাহার
বামনা থানার ওসি ইলিয়াস আলী তালুকদার

মঙ্গলবার প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মফিজুল ইসলাম।

জানা যায়, এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মফিজুল ইসলামকে প্রধান করে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা রোববার ঘটনাস্থল বামনা পরিদর্শন করে সোমবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার পরই ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়।

এদিকে পুলিশ হেফাজতে এক যুবলীগ নেতাকে বেধড়ক মারপিটের ঘটনায় দুর্গাপুর থানার ওসি মিজানুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে ওই থানা থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়।

দুর্গাপুর থানার ওসি প্রত্যাহার
দুর্গাপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান

আহত যুবলীগ নেতার নাম আলম তালুকদার। তিনি দুর্গাপুরের বাকলজোড়া গ্রামের মৃত আলাল তালুকদারের ছেলে এবং আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি জালাল উদ্দিন তালুকদারের ভাতিজা। আলম তালুকদার বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জানা গেছে, দুর্গাপুর থানা পুলিশ গত সোমবার সন্ধ্যায় একটি মারামারির ঘটনায় আলম তালুকদারসহ কয়েকজনকে আটক করে। থানায় নেয়ার পর ওসির নির্দেশে আলমকে ব্যাপক মারধর করা হয়। এতে আলম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পুলিশ ও স্বজনরা দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

অন্যদিকে কক্সবাজার সদরের খরুলিয়ায় গণধোলাইয়ের শিকার হয়ে এক ইয়াবা ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় সদর মডেল থানার ওসি সৈয়দ আবু মো. শাহজাহান কবিরকে ক্লোজ করে সিলেট রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

কক্সবাজার সদরের ওসি ক্লোজ
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি সৈয়দ আবু মো. শাহজাহান কবির

জানা গেছে, সদর উপজেলার খরুলিয়া বাংলাবাজারের পশ্চিম মুক্তারকুল এলাকার মৃত আব্দুর শুক্কুরের ছেলে নবী হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা করে আসছিল। প্রতিবারের মতো সোমবার দুপুরে ইয়াবা বিক্রির সময় তাকে জনতা ধরে বেধড়ক গণধোলাই দেয়। পরে ঝিলংজা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয় এবং পুলিশের হাতে তাকে সোপর্দ করেন। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়। এক পর্যায়ে ওই দিন বিকালে তার শারীরিক অবস্থা ভালো হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে সূত্রটি জানায়।

আরো পড়ুন- পুলিশের গুলিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিহত

এদিকে মঙ্গলবার ভোরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখা দিলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মারা যায় ইয়াবা ব্যবসায়ী নবী হোসেন।

আরো পড়ুন- মেজর সিনহার মৃত্যু বিচ্ছিন্ন ঘটনা , সম্পর্কে চিড় ধরবে না

1 মন্তব্য

Leave a Reply