তরুনদের অনন্য কীর্তি, নয়’শ দুস্হ পরিবার পেল খাদ্য সামগ্রী

আমাদের জীবনকালে আমরা বিশ্বযুদ্ধ দেখিনি, বৈশ্বিক মহামারী যেমন বার্ড ফ্লু, সার্স, মার্স, ইবোলা ইত্যাদি দেখেছি। কিন্তু এই কভিড-১৯ সবকিছুকে ছাপিয়ে এমন এক পৃথিবীর সামনে আমাদের দাঁড় করিয়েছে যেই পৃথিবী আমাদের একেবারেই অচেনা। বদলে দিয়েছে জীবনের সকল হিসেব, সকল চেনা সমিকরন।

আর করোনার করুন প্রভাব পরেছে খেটে খাওয়া দিন মজুরদের উপর। অনেকেই বলছে যে আমি করোনায় মরার আগে ক্ষুধায় মরে যাবো।বিত্তবানেরাও তেমন কেউ এগিয়ে আসছেনা। এমতাবস্থায় আমাদের একমাত্র অবলম্বন আমাদের সবচেয়ে বড় ক্ষমতাটিকে সামনে নিয়ে আসা। সেই অসম্ভব ক্ষমতাটির নাম হলো ‘মানুষের জন্য মানুষের ভালোবাসা’। সেই ভালোবাসা থেকেই কুমিল্লা জেলার স্বনামধন্য বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের একঝাক তরুন অসহায় দুস্হ মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিয়েছে।

তারা ইউনিয়নের ২৭টি গ্রামের ৯০০ মানুষের তালিকা প্রস্তুত করেন। যাদের সবাই করোনার প্রভাবে কর্মহীন তথা অসহায় হয়ে পরেছেন। তারা ব্যক্তিগত ভাবে এগিয়ে আসেন এবং সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগীতার আহবান জানান। উদ্যমী এই তরুনদের ডাকে অনেকেই সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেন। সংগ্রহকৃত টাকায় তারা ৯০মণ চাল, ১২মণ ডাল, ৪৫মণ আলু, ২৩মণ পিয়াজ, ৯শ’ লিটার তেল, ১৮শ’ পিস সাবান ক্রয় করেন। মোকাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক টিম দিন রাত পরিশ্রম করে খাদ্য সামগ্রীগুলো প্যাকেট করেন। অবশেষে মঙ্গলবার দুপুর থেকে তারা ২৭ টি গ্রামের ৯০০ দরিদ্র মানুষের মাঝে পিকআপ এবং ভ্যান যোগে খাদ্য সামগ্রীগুলো সুষ্ঠভাবে বন্টন করেন।

খাবারের প্যাকেট পেয়ে হতদরিদ্র মানুষগুলোর চোখে মুখে যেমন আনন্দের ঝিলিক তেমনি স্বেচ্ছাসেবক তরুনদের চোখে মুখেও পরম পরিতৃপ্তি। তাদের একজন উচ্ছসিত কন্ঠে বলেন আমরা চাই প্রত্যেক এলাকাতেই তরুনরা এভাবে এগিয়ে আসুক। আমরা কথা দিতে পারি দুর্যোগ যত বড়ই হোক একটি মানুষও না খেয়ে থাকবেনা।

Leave a Reply