শেয়ারবাজার

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন লেনদেনে অংশ নেয়া যে সমস্ত কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে তার চেয়ে ছয়গুণ বেশি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর কমেছে। শেয়ারবাজারে টানা এই দরপতনে হতাশ হয়ে পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা।

তবে শুরুর দিকে আজ সূচক কিছুটা বাড়লেও শেষ সময়ে সূচক পড়ে যায় ৭২ পয়েন্টে। ত্রিমুখী বৈঠকের পর এ নিয়ে টানা ১২ কর্মদিবসের মধ্যে ১০ দিনই সূচকের পতন দেখল বিনিয়োগকারীরা। এই কয় দিনে সূচক পড়ল ৪১৯ পয়েন্ট।

শেয়ারবাজারে দরপতনের পিছনে বিএসইসির সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতভিন্নতার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। গেলো ৩০ নভেম্বর দুই পক্ষের বৈঠকে মতভিন্নতার বিষয়ে সমাধান না হওয়ায় গত ৭ ডিসেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ে দু’পক্ষের উপস্থিতিতে আরও একটি বৈঠক হয়। সেই বৈঠক শেষে আরও একটি বৈঠকের কথা জানানো হয়। আগামী জানুয়ারী মাসের শুরুতে বৈঠক শেষে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে জানানো হয়।

চলমান অবস্থা নিয়ে জানতে চাইলে বিনিয়োগকারীরা দেশ সমাচারকে বলেন, কবে নাগাদ শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলা মুশকিল। তবে বিএসইসি, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থমন্ত্রণালের বৈঠকের পর বেশ কিছু পরিবর্তন আসবে বলে আমরা ধারণা করেছিলাম। চলমান এ পরিস্থিতি নিয়ে আমরা বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি।

বিনিয়োগকারীরা আরও বলেন, শেয়ারবাজার চলমান সংকট নিরসনে সরকারের হস্তক্ষেপ আশাকরছি। তাহলে হয়তো শেয়ারবাজারে বেশ কিছু পরিবর্তন দৃশ্যমান হতে পারে। এমনটিই প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের।

গেলো ২৫ ডিসেম্বর ‘এসএমই খাতের উন্নয়নে পুঁজিবাজারের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, এখন শেয়ার বিক্রির নয়, কেনার সময়। আর সবাই মিলে শেয়ার কেনা শুরু করলেই বাজার আরও ঘুরে দাঁড়াবে।

তিনি আরও বলেন, এখানে ২০১০ সালের পূণরাবৃত্তি হওয়ার সুযোগ নেই। এটা বিনিয়োগকারীদের মাথায় রাখতে হবে। স্বচ্চতা ও জবাবদিহিতার জন্য আমরা তালিকাভুক্ত কোম্পানির বিশেষ নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। কিন্তু সেখানে কোম্পানির এমন সব তথ্য উঠে আসছে, যা দেখে নিজেরাই ভয় পেয়ে যাই।