জেনে নিন পেঁয়াজের যত গুণ

সভ্যতা মানেই পেঁয়াজের ব্যবহার। আদিম যুগ থেকেই মানুষ রান্নায় পেঁয়াজের ব্যবহার শিখে এসেছে। প্রতিদিনের রান্নায় পেঁয়াজ না থাকলে যেন স্বাদই পাওয়া যায় না।

পেঁয়াজ গৃহিণীকে চোখে পানি এনে দিলেও বিভিন্ন ঔষধি গুণের কারণে রান্নায় এর ব্যবহার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আসুন জেনে নিই পেঁয়াজের নানা গুণের কথা-

পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ পেঁয়াজ পুস্টিবিদদের মতে, একটি বড় পেঁয়াজে ৮৬.৮ শতাংশ পানি, ১.২ শতাংশ প্রোটিন, ১১.৬ শতাংশ শর্করাজাতীয় পদার্থ, শূন্য.১৮ শতাংশ ক্যালসিয়াম, শূন্য.০৪ শতাংশ ফসফরাস ও শূন্য.৭ শতাংশ লোহা থাকে।

প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, সালফার, ভিটামিন ‘বি’ ও ‘সি’তে সমৃদ্ধ পেঁয়াজ।

তাই খাবারে পেয়াজের ব্যবহার অনন্য। তাই কাঁচা পেঁয়াজ রোজ একটু হলেও খেতে বলেন পুষ্টিবিদরা।

দেহের বিষ মুক্তকরণে পুষ্টি বিজ্ঞান বলে পেঁয়াজে রয়েছে কার্মিনেটিভ, অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল, অ্যান্টিসেপ্টিক এবং অ্যান্টিবায়োটিকজাতীয় পদার্থ। এসব উপাদান শরীর থেকে বিষ দূর করে দেয়। এ কারণে শরীরে কোথাও সংক্রমণ ঘটে থাকলে কাঁচা পেঁয়াজ চিবিয়ে খেলেই চটজলদি উপকার পাওয়া যাবে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে দেহে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়াতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে পেঁয়াজ অত্যন্ত ভালো। যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রোজ পেঁয়াজ খেতে পারেন।

জ্বর-সর্দিতে ঠাণ্ডা লেগে গলাব্যথা, সর্দি-কাশি-জ্বর, অ্যালার্জি বা সামান্য ব্যথায় দারুণ কাজ করে পেঁয়াজ। সামান্য পেঁয়াজের রসের সঙ্গে একটু মধু মিশিয়ে খেলে রোগীর মুখে হাশি ফুটবেই।

দেহের তাপমাত্রা কমাতে এখানেও পেঁয়াজ তার কারিশমা দেখায়। জ্বরে দেহের তাপমাত্রা বেশি থাকলে পাতলা করে কাটা পেঁয়াজ কপালে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যে তাপমাত্রা কমিয়ে দেয়। বিষয়টি হয়তো অনেকেরই অজানা।

হজমশক্তি বাড়াতে হজমে সমস্যা রয়েছে? প্রতিদিনের খাবার তালিকায় একটু কাঁচা পেঁয়াজ রাখুন। কেননা পেঁয়াজ খাবার হজমের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন এনজাইম বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে দ্রুত খাবার হজম হয়।

ত্বকের নানা সমস্যায় ত্বকের সমস্যায় পেঁয়াজের ব্যবহার জনপ্রিয়। পোকামাকড় কামড়ালে তাৎক্ষণিক পেয়াজ ডলে দিন কামড়ের স্থানে। মূহুর্তেই প্রশান্তি মিলবে।

এছাড়াও রোদে পোড়া ট্যান, কিংবা ব্রণ সমস্যায় সেই সমস্ত জায়গায় একটু পেঁয়াজের রস লাগালে একটু কুটকুট করে ব্যথা অনুভূত হবে এরপর দ্রুত কাজ করবে তা।

ক্যান্সার প্রতিরোধে মেডিকেল সাইন্স বলে কোলন ক্যান্সারের মতো রোগের সঙ্গে লড়তে সাহায্য করে পেঁয়াজ। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে পেঁয়াজের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট কোষের ডিএনএ কে ক্ষতির থেকে বাঁচিয়ে ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

এমনকি গবেষণায় দেখা গেছে যে পেঁয়াজের রস টেস্ট টিউবের টিউমার সেল কে ধ্বংস করে এবং ইদুরের শরীরের টিউমারের বৃদ্ধি রোধ করে।

হার্ট সুস্থ রাখতে পেঁয়াজ রক্তকে জমাট বাঁধতে দেয় না এবং রক্তের কোলেস্টেরল কমায়। তাই পেঁয়াজ হৃৎপিণ্ডের জন্য অত্যন্ত উপকারী। অনেক কার্ডিওলোজিস্টই নিয়মিত পেঁয়াজ খেতে বলে দেন রোগীদেরকে। বিশেষ করে হার্ভাডের ডাক্তার ভিক্টর গুড়েউইচ তার রোগীদেরকে প্রতিদিন অন্তত একটি করে পেঁয়াজ খাওয়ার উপদেশ দেন।

হাড় ভালো রাখতে হাড়ের কঠিন অসুখ অ্যাথেরসক্লেরোসিস এবং অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগের সঙ্গে লড়াই করতে পেঁয়াজ অত্যন্ত উপকারী ভূমিকা রাখে।

যৌন ক্ষমতা বাড়াতে পেঁয়াজ যৌন ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। প্রতিদিন অন্তত এক গ্লাস করে পেঁয়াজের রস খেলে যৌন ক্ষমতা বাড়ে। এমনটাই জানিয়েছে বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply