জার্মানিকে কঠিন জবাব দেবে তুরস্ক

তুরস্কের পণ্যবাহী জাহাজ জার্মান ফ্রিগেটের অনুসন্ধানের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছে তুরস্ক সারকার। মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভাসগ্লু বলেছেন, জার্মানির পতাকাবাহী রাষ্ট্র বা ক্যাপ্টেনের সম্মতি ছাড়া কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ তল্লাশি ও থামানো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।

রাজধানী আঙ্কারায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাভাসগ্লু সাংবাদিকদের বলেন, জলদস্যুদের মতো জাহাজে ওঠা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

তিনি আরও বলেন, এই ইস্যুতে আমারা রাজনৈতিক ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাব। এই ঘটনাটি আমরা ছাড়ব না। আঙ্কারা যে কোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

কাভাসগ্লু বলেন, আমাদের প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা এই দিকে রয়েছে।আমরা আমাদের কাছে উত্তরহীন কিছু করতে পারি না।

এ ঘটনা জাতিসংঘ, ন্যাটো ও ইন্টারন্যাশনাল ম্যারিটাইম অর্গানাইজেশনে তোলার কথাও জানিয়েছেন কাভাসগ্লু।

এর আগে তুরস্ক সোমবার প্রথমে অভিযোগ করে, জার্মান নৌবাহিনীর সদস্যরা তুরস্কের বাণিজ্যিক জাহাজ ‘রোজেলিন’-এ অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে এটিতে তল্লাশি চালিয়েছে।

তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রোববার গ্রিসের পেলোপোনিস উপত্যকার কাছে দেশটির জাহাজে যে তল্লাশি চালানো হয়েছে তা আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। কারণ আন্তর্জাতিক পানিসীমায় এ ধরনের তল্লাশি চালানোর কোনো অধিকার কারও নেই।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হামিদ আকসাভি অভিযোগ করেছেন, জার্মান নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘হামবুর্গ’ থেকে দেশটির নৌসেনারা রোজেলিনে অনুপ্রবেশ করে এবং এটির ক্যাপ্টেনসহ সব নাবিককে অস্ত্রের মুখে বন্দি করে রাখে।

তাৎক্ষণিকভাবে তুরস্ক সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কাছে অভিযোগ জানানো হলে তল্লাশি অভিযান অসমাপ্ত রেখেই জার্মান নৌসেনারা তুর্কি বাণিজ্যিক জাহাজ ত্যাগ করে চলে যায়।

জার্মানির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, দেশটির নৌবাহিনী ইইউর পক্ষ থেকে নিযুক্ত ‘আইরিনি’ বাহিনীর হয়ে ভূমধ্যসাগরে টহল দিচ্ছিল। যুদ্ধকবলিত লিবিয়ায় অবৈধ অস্ত্রের চালান প্রতিহত করার জন্য ‘আইরিনি’ বাহিনী গঠিত হয়েছে।

আরও পড়ুন :- আফগানিস্তানে বোমা হামলায় নিহত ১৭

জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা তুর্কি জাহাজে অস্ত্র আছে বলে সন্দেহ করে এটিতে তল্লাশি চালাতে যায়। কিন্তু জাহাজের নাবিকদের বাধার মুখে তাদের দায়িত্ব অসমাপ্ত রেখেই সেটি থেকে নেমে যায়।

তুরস্ক বলেছে, রোজেলিন জাহাজে করে লিবিয়ায় জরুরি ত্রাণ সাহায্য ও খাদ্যসামগ্রী পরিবহন করা হচ্ছিল।

 

1 মন্তব্য

Leave a Reply