bsec

মাজহারুল আলম: গত বৃহস্পতিবার ৬৪টি কোম্পানিকে বিএসইসি থেকে চিঠি দেয়া হয় পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর প্রতিটির পরিশোধিত মূলধন হতে হবে অন্তত ৩০ কোটি টাকা। এ জন্য সর্বোচ্চ এক বছর সময় দেয়া হয়েছে ২০ কোটির নিচের কোম্পানিগুলোকে। এর মধ্যে যেসব কোম্পানির মূলধন ২০ কোটি টাকা বা তার চেয়ে বেশি, তারা সময় পাবে ছয় মাস।

ডিএসই সূত্র মতে, জিলবাংলা সুগারের পরিশোধিত মূলধন ৬ কোটি টাকা। যেখানে শেয়ারসংখ্যা ৬০ লাখ। গেলো অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ১১৫ টাকা ৯৭ পয়সা হিসাবে কোম্পানিটি লোকসান দিয়েছে ৬৯ কোটি ৫৮ লাখ ২০ হাজার টাকা।

এর আগের বছর শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৯৩ টাকার বেশি। এই হিসাবে মোট লোকসান হয়েছিল ৫৬ কোটি টাকার বেশি। তারও আগের বছর শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ১০৩ টাকার বেশি, এই হিসাবে লোকসান ৬২ হয়েছিল কোটি টাকার মতো।

রাষ্ট্রায়ত্ত অন্য চিনিকল শ্যামপুর সুগারের পরিশোধিত মূলধন খুবই কম। কিন্তু ক্ষতির পরিমান আরও বেশি। ৫ কোটি টাকা মূলধনের এই কোম্পানির শেয়ারসংখ্যা ৫০ লাখ। গেলো অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ১২৫ টাকা ১৫ পয়সা হিসাবে লোকসান দিয়েছে ৭৫ কোটি টাকার বেশি।

১ কোটি ৭০ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের জুট স্পিনার্স গেলো অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান দিয়েছিল ৪৪ টাকা ৫৯ পয়সা। কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি কোনো সম্পদ নেই, উল্টো শেয়ারপ্রতি দেনা আছে ৩৯৩ টাকা ৫৭ পয়সা।

১৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি উসমানিয়া গ্লাস তার প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক বেসরকারি কোম্পানির কাছে দাঁড়াতেই পারছে না। কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ক্রমেই বাড়ছে।

২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি ৭ টাকা ২১ পয়সা, গেলো অর্থবছরে ৬ টাকা ৬৬ পয়সা লোকসান দেয়া কোম্পানিটির কর্মকর্তারা নিজেরাও জানেন না কবে মুনাফার মুখ দেখা যাবে। তারা গণমাধ্যমকে একাধিকবার বলেছেন, যে ধরনের যন্ত্রপাতি দিয়ে তারা কাজ করেন, সেগুলো এই যুগে আর চলে না। ফলে সেটি আধুনিকীকরণ করা ছাড়া উপায় নেই।

পরিশোধিত মূলধন বাড়িয়ে ৩০ কোটি টাকা করলে যে পরিমাণ অর্থ পাওয়া যাবে, তার চেয়ে বেশি টাকা এক অর্থবছরেই খরচ হয়ে যাচ্ছে তাদের।

বিবিধ খাতের কোম্পানি সাভার রিফ্রাকটরিজ কখনও লভ্যাংশ দিয়েছে, এমন তথ্য নেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে। কিন্তু ১ কোটি ৯৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধিত মূলধনের এই কোম্পানিটির শেয়ারদর বিস্ময় জাগায়। সাম্প্রতিক সময়ে দর অনেকটা কমলেও বুধবার লেনদেন হয়েছে ১৮৭ টাকা ৭০ পয়সা। তবে গত এক বছরে সর্বোচ্চ দর ৩০৮ টাকা ৭০ পয়সা।

একই খাতের আরেক কোম্পানি দুলামিয়া কটন কখনও লভ্যাংশ দিতে পেরেছে, এমন তথ্য নেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে। প্রতিবছরই লোকসান দেয়া কোম্পানিটি ২০২১ সালেও শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৩৭ পয়সা লোকসান দিয়েছে।

ক্রমাগত লোকসানের কারণে রিজার্ভ ঋণাত্মক হয়ে গেছে। ৩৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা দায় তৈরি হয়েছে। শেয়ারপ্রতি সম্পদও দায়ে পরিণত হয়েছে। ২০২১ সালে এই দায় দাঁড়িয়েছে ৩৭ টাকা ৪২ পয়সা।

৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের ইমাম বাটন ২০১৪ সাল থেকেই টানা লোকসানে বলে ডিএসইর ওয়েবসাইটে দেখা যায়। ২০১০ সালে সবশেষ ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিয়েছে তারা।

১৬ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের মেঘনা কনডেনড মিল্ক গত এক যুগেও লভ্যাংশ দিতে পারেনি প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ লোকসানের কারণে। গত জুনে সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৮ টাকা ২৬ পয়সা। ২০১৭ সাল থেকে প্রতিবছরই এই লোকসান শেয়ারপ্রতি ছিল ৭ টাকার বেশি।

একই গ্রুপের আরেক কোম্পানি মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজও এক যুগ ধরে টানা লোকসান দিচ্ছে। এই কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১২ কোটি টাকা।

৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের জিকিউ বলপেনের অবস্থা দিনকে দিন খারাপ হচ্ছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ১ টাকা ১৫ পয়সা। সেটি গত অর্থবছরে গিয়ে ঠেকে ৭ টাকা ৫৬ পয়সা।

কোম্পানিটির সমস্যা যে অর্থের নয়, তা তাদের রিজার্ভেই স্পষ্ট। সেখানে ৯৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা হাতে আছে, অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি ১১০ টাকার বেশি। শেয়ারপ্রতি সম্পদ আছে ১৩৮ টাকা ৭৯ পয়সার। কোম্পানিটির সমস্যা হলো তারা যে ধরনের ব্যবসা করে, সেটির এখন চাহিদা নেই।