করোনায় ইউরোপে একমাত্র ব্যতিক্রম সুইডেন

সুইডেন

পুরো ইউরোপ করোনাভাইরাসের আতঙ্কে ঘরের ভেতর গুটিয়ে গেছে। অথচ এই অঞ্চলেরই একটি দেশ একেবারেই ব্যতিক্রম।

দেশটি হচ্ছে সুইডেন। কোথাও কোনো লকডাউন নেই। জীবনযাত্রা চলছে স্বাভাবিকভাবেই।

এখনও আগের মতোই অফিসে যাচ্ছেন সুইডিশরা। বাজারে যাচ্ছেন মাল-সামান কিনতে। দলবেঁধে মজা করে খাচ্ছেন রেস্তোরাঁয়। দীর্ঘ শীতের পর আবহাওয়া কিছুটা উষ্ণ হতে শুরু করেছে।

ঘরের বাইরে বসে সময় কাটানোর মতো উষ্ণতা এসেছে চারপাশে। করোনার আতঙ্ক ভুলে খোশ মেজাজে মিঠে রোদ গাঁয়ে মাখছে সুইডেনের জনগণ।

পরিবারের সবাইকে নিয়ে রাজধানী স্টকহোমের মারিয়াটরগেট স্কয়ারে আইসক্রিম খেতে জড়ো হচ্ছেন অনেকে। শহরের অন্যান্য অংশে খোলা রয়েছে নাইটক্লাবগুলো। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এ পদক্ষেপ কিছুটা শিথিল। ডেনমার্কে ১০ জনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে ব্রিটেনে নিজের বাড়ি ছাড়া বাইরে কারো সঙ্গে দেখা করাই নিষিদ্ধ। লকডাউনে না থাকলেও সুইডেনের করোনার আতঙ্ক স্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করেছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুসারে, দেশটির রাস্তাগুলো আগের চেয়ে নীরব হয়ে উঠেছে। স্টকহোমের গণপরিবহন প্রতিষ্ঠান এসএল জানিয়েছে, সাবওয়ে ও কমিউটার ট্রেনে যাত্রী সংখ্যা অর্ধেকের মতো কমে গেছে। জরিপ অনুসারে, শহরটির অর্ধেক বাসিন্দা বাড়ি থেকে কাজ করছেন।

রাষ্ট্রীয় তহবিলে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান স্টকহোম বিজনেস রেজিওন, স্টকহোমের বৈশ্বিক ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে সমর্থন দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির অনুমান, রাজধানীর অন্তত ৯০ শতাংশ বড় সংস্থাগুলো এ পরিস্থিতির মধ্যেও উন্নতি করবে।

প্রতিষ্ঠানটির সিইও স্টাফান ইনগাভারসন বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেরই এমনটা করার সুযোগ রয়েছে। তারা এটা করছে। এটা কার্যকরী।

ইনগাভারসনের মন্তব্যে সুইডিশ সরকারের করোনা মোকাবেলার কৌশল ফুটে উঠে- নিজ থেকে দায়িত্ব নেয়া।

রাজনীতিক ও জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এখনও প্রত্যাশা করছেন, কঠোর পদক্ষেপ আরোপ না করেও তারা ভাইরাসটির সংক্রমণ রুখতে পারবেন। 

Leave a Reply