এশিয়ান ইউনিভার্সিটি

বিশ্বায়নের এ যুগে তথ্য প্রযুক্তির আকাশ চুম্বী সফলতা, বিজ্ঞান, গবেষণা, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি, যোগাযোগ, ব্যবসা বাণিজ্যে ও আন্তর্জাতিক প্রচার ও প্রসার সবকিছুর সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিতকরণ ও উচ্চ শিক্ষার মান উন্নয়নে যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি অসংখ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সফলতার সাথে অবদান রেখে আসছে। দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উৎপাদন শিল্পকারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিজ্ঞান ও গবেষণা চর্চামূলক প্রতিষ্ঠানে দক্ষ জনবলের চাহিদা পূরণের লক্ষে দেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি প্রায় সবকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অনস্বীকার্য।

প্রতিটি অভিভাবক চায় তার সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে, সেই ক্ষেত্রে সবার পক্ষে সম্ভব নয়, সন্তানের চাহিদামত বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেয়া। যে পরিমাণ টাকা দিয়ে বিদেশে পড়াবেন তার চেয়ে অনেক কম খরচে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করে বাংলাদেশেই স্বাচ্ছন্দে জীবন যাপন করতে পারেন।

দেশেই আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রদানের লক্ষে দীর্ঘ ২ যুগের অধিক সময় ধরে একটি প্রতিষ্ঠান তার মেধার স্বাক্ষর রাখছে দেশে তথা দেশের বাইরে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীরা তাদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে মেধার স্বাক্ষর রেখে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দেশে ও প্রবাসে। উন্নত বিশ্বেও বিভিন্ন দেশে মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে নিজেকে করেছে আর এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে করেছে স্বনামধন্য। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে মুনাফানিভর্র না হয়ে সেবার মানসে উচ্চশিক্ষা বিস্তারে কাজ কওে যাচ্ছে। অভিভাবকের সাধ ও সাধ্যেও সমন্বয় ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের উন্নত জীবন গঠনে বদ্ধপরিকর এই প্রতিষ্ঠানটি।

উচ্চশিক্ষায় বিদেশমুখিতা কমাতে এবং দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালের ৪ জানুয়ারী যাত্রা শুরু করে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীও পদচারনায় মুখরিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল মাত্র ২২৭ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক একজন বরেণ্য শিক্ষাবিদ ২০১৬ সালে জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ ইবনে হুসাইনের কাছ থেকে জর্ডান রয়েল একাডেমী পদক লাভ করেন। যা বাংলাদেশের জন্য একটি গৌরবময় দৃষ্টান্ত।

এইউবি’র রয়েছে আশুলিয়া বঙ্গবন্ধু রোডে প্রায় ১০ একর জায়গার ওপর স্থায়ী ক্যাম্পাস। আধুনিক শিক্ষা উপকরণ, আবাসন সুবিধা, উন্নত ল্যাবরেটরি, ইনোভেশনল্যাব,বিশাল খেলার মাঠ, যাতায়াত সুবিধা, টেনিস কোর্ট, ওয়াই ফাই সহ সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে স্থায়ী ক্যাম্পাসে। শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য নয় বরং একজন নৈতিকতাসম্পন্ন যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই এর মূল লক্ষ্য। এছাড়া ও সারা বছরই নানা রকম সহ-শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালিত হয় যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের লুকায়িত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়।

এইউবিতে ৫টি অনুষদে মোট ১২ টি বিভাগ রয়েছে। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি শুরু থেকেই বিশ্ব মানের শিক্ষা কারিকুলামের মাধ্যমে একাডেমিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। ছাত্র-ছাত্রীদের মেধা ও মননকে বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ক্যারিয়ার গাইড লাইন ওয়ার্কশপ, সাইন্স ফেস্টিভাল, সফটওয়্যার-এ্যাপস প্রতিযোগিতা, স্টাডিট্যুও এবং বিভিন্ন ধরনের ইনডোর ও আউটডোর গেমস সহ সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড অব্যাহত রয়েছে।

দুই লক্ষাধিক এ্যালামনাই দেশে প্রবাসে সারাবিশ্বে এশিয়ান ইউনিভার্সিটির আলোকবর্তিকা হাতে দাড়িয়ে আছে একটি উন্নত সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলা গঠনে। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এমন কোন গ্রাম নেই যেখানে এইউবি এর শিক্ষার্থী নেই, টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রুপসা থেকে পাথুরিয়া বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তরে এইউবি নামক আলোবর্তিকার মশাল হাতে দাড়িয়ে আছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সৎ ও দক্ষ শিক্ষার্থীরা।

তাই আমরা বলতে পারি, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়।