ইরাকের জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হাশ্‌দ আশ-শাবির ওপর মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনি বলেছেন, উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশকে পরাজিত করার কারণেই ইরাকের জনগণের ওপর প্রতিশোধ নিচ্ছে মার্কিন সরকার। 

বুধবার রাজধানী তেহরানে এক অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ নেতা এসব কথা বলেছেন।তিনি বলেন, ইরাক এবং সিরিয়ায় আমেরিকা কি করছে তা আপনারা সবাই দেখছেন। প্রকৃতপক্ষে, আমেরিকা ইরাকের হাশ্‌দ আশ-শাবির ওপর প্রতিশোধ নিচ্ছে এই কারণে যে, জনপ্রিয় এ সংগঠনটি আমেরিকার সৃষ্টি করা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশকে নির্মূল করার কাজে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে। 

আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, “আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে এবং ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ভাষায় আমেরিকার এই পরশ্রীকাতরতার নিন্দা জানাচ্ছি।”

গত রবিবার মার্কিন বাহিনী হাশ্‌দ আশ-শাবির একটি কেন্দ্রে বিমান হামলা চালায় যাতে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ইরাকের জনগণ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং মঙ্গলবার রাজধানী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে তারা হামলা চালায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দূতাবাসে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে এর জন্য চরম মূল্য দিতে হবে বলে টুইটারে যে হুমকি দিয়েছেন তারও জবাব দেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা।

তিনি বলেছেন, এই ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভুল করেছেন এবং এখানে ইরানের কোনও দায় নেই, বরং আপনাদেরকেই এর দায় নিতে হবে। এই যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে তার মূল কারণ আপনাদেরকে বুঝতে হবে। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে তারা কখনও তা বোঝার চেষ্টা করবে না।

সর্বোচ্চ নেতা বলেন, আমেরিকানদেরকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে ইরাক এবং আফগানিস্তানসহ এ অঞ্চলের মানুষ তাদের অপরাধের জন্য তাদেরকে কতটা ঘৃণা করে। 

আয়াতুল্লাহিল খামেনি আরও বলেন, ইরান যদি কোনও দেশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে সেটি প্রকাশ্যে করে কিন্তু সবাইকে বুঝতে হবে যে, ইরান তার নিজের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু কেউ যদি ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি সৃষ্টি করে তাহলে তা নস্যাৎ করতে ইরান কখনও দ্বিধা করে না। তিনি ইরানি জনগণকে সাহসী ও সতর্ক হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং যেকোনও ফ্রন্টে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত বলে ঘোষণা করেন। সূত্র: পার্সটুডে