কি আছে ইরানের দর্শনীয় নিদর্শন ?

ইরানের দর্শনীয় নিদর্শন
ইরানের বুরুজেরদ শহর : দেশ সমাচার

সামরিক শক্তি সম্পন্ন বিশাল এক দেশ ইরান। এ দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ইতিহাস-ঐতিহ্য, পুরাতত্ত্ব আর সংস্কৃতির বিচিত্র সমৃদ্ধ অসংখ্য উপাদান। আজ আমরা আপনাদের জানাবো ইরানের দর্শনীয় নিদর্শন সমৃদ্ধ জয়গা বুরুজেরদ শহরের দর্শনীয় কিছু প্রাকৃতিক নিদর্শনের তথ্য।

গিয়েছিলাম পশ্চিম ইরানের চমৎকার প্রদেশ লোরেস্তানের কয়েকটি শহরে। বিশেষ করে লোরেস্তানের কেন্দ্রিয় শহর খুররামাবাদে সরাসরি আমরা গিয়েছি এবং ঘুরে ঘুরে দেখেছি এখানকার শহরের আনাচে কানাচে কোথায় কী কী আছে দেখার মতো আর উপভোগ করার মতো। দেখেছি অনেক অনেক ঝরনা আর ফোয়ারা। ঐতিহাসিক দূর্গও দেখেছি এখানে। আরও দেখেছি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সবুজের সমারোহপূর্ণ বেশ কয়েকটি গ্রাম।

যাই হোক আজ আমরা যাবো লোরেস্তানেরই আরেকটি সুন্দর শহর বুরুজেরদে।এই শহরটিও অসম্ভব সুন্দর। এই শহর দেখে আমরা সুযোগ পেলে আরও কিছু ইরানের দর্শনীয় নিদর্শন নিয়ে পরিচিত হবার চেষ্টা করবো।

লোরেস্তান প্রদেশ ভ্রমণ করাটাই জীবনের জন্য একটা অনন্য সাধারণ অভিজ্ঞতা।যারাই এই প্রদেশ ভ্রমণ করেছেন তারাই এ ধরনের মন্তব্য করেছেন। লোরেস্তানের শহরগুলো এবং এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বৈচিত্র্যময় স্মৃতি বিস্মৃতির দ্বারে কড়া নাড়েই না বরং সারাক্ষণই তরতাজা থাকে। মনে হয় যেন এই তো সেদিনই তো গেলাম। এখনও ভাসছে সবকিছু চোখের সামনে। লোরেস্তানের শহরগুলোর রঙ, রূপ গন্ধে বৈচিত্র্য রয়েছে। যারাই ভ্রমণ করেন এইসব শহর তারা স্রষ্টার দেওয়া এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে যান। বুরুজের্দ শহরে ঢোকার মুখেই পড়বে একটি স্কোয়ার। ওই স্কোয়ারটিতে পৌঁছলেই নাকে আসবে বিভিন্ন রকমের কাবাবের সুঘ্রাণ। কাবাবের পাশাপাশি আরও বিচিত্র খাবারেরও আয়োজন রয়েছে এখানে।

খুররামাবাদ নদীর কথা তো মনে আছে নিশ্চয়ই। ওর পাশের নওজিওন ঝরনার কথা। ফরেস্ট পার্ক শুরবের কথাও বলেছিলাম। খুররামাবাদ জামে মসজিদ। এই মসজিদের বর্তমান কাঠামোতে নতুন করে বেশ কিছু সংযোজন ঘটেছে। একটি হলো পিলারযুক্ত শাবেস্তান। এই শাবেস্তানটি চার কোণা সাতটি পিলারের ওপর স্থাপন করা হয়েছে। আর সাত পিলারের উপরে নির্মাণ করা হয়েছে চমৎকার একটি গম্বুজ। না দেখলে বুঝতে পারা কঠিন যে এই গম্বুজটি কতোটা সুন্দর ।

নাশতা খাওয়া এবং খানিক বিশ্রাম নিয়ে আবারও যাত্রা শুরু করা যেতে পারে এখান থেকে। এখন আমরা যাবো কাপারগাহ প্রণালিতে। সকাল সকাল আপনাদের জন্য অপেক্ষায় থাকবে রেস্টুরেন্টগুলো। বুরুজেরদের উত্তর-পশ্চিমে সুন্দর এই প্রণালিটি অবস্থিত। এই প্রণালিটা আসলে একটা নদী যা কখনো শুকায়না, বেশ আঁকাবাঁকা। পায়ে হেঁটে কিংবা সাইকেল চালিয়েও কাপারগাহ প্রণালিটি পার হওয়া যায়। বেশিরভাগ ভ্রমণ রসিকই পায়ে হেঁটে এই নদীটি পার হয়। নদীর দুই পারেই রয়েছে পায়ে হাঁটার উপযোগী পত। এই প্রণালিটি শুরু হয়েছে কাপারগাহ গ্রামের একেবারে শেষ থেকে। শেষ হয়েছে ভানয়ি নামক এলাকায় গিয়ে। এই প্রণালিটি পর্বতারোহীদের জন্যও খেলার খুবই উপযোগী একটি এলাকা। 

যারা পর্বত ভ্রমণ করেন কিংবা পর্বতারোহণ করেন উভয়ের জন্যই চমৎকার এবং শ্রেষ্ঠ একটি পথ হলো কাপারগাহ।ইরানের দর্শনীয় নিদর্শন এর মধ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এখানে রয়েছে দুটি প্রাকৃতিক ফোয়ারা। দুটোই গরম পানির।রয়েছে পাথরের সেতু আর গোপন গুহা নামের একটি গুহাও। কাপারগাহ এলাকার উত্তর পশ্চিম দিক থেকে যদি দক্ষিণ পশ্চিম দিকে যাওয়া যায় তাহলো বোস্তনে ফাদাক নামের অবকাশ যাপন কেন্দ্রটি দেখতে পাওয়া যাবে।বোস্তন শব্দটি বড় পার্ককে বলা হয়। ফাদাক হচ্ছে বুরুজেরদ শহরের সবচেয়ে পড় পার্ক। ফাদাক পার্কটি চোগা নামক টিলার মুখোমুখি। এই টিলাটি বিনোদন কেন্দ্র হিসেবেই বেশিরভাগ পরিচিত। এই পার্কের ভেতরে রয়েছে তিনটি হ্রদ। হ্রদগুলো একটি আরেকটির সঙ্গে লাগোয়া। হ্রদগুলো ‘গুলরুদ’ নদীর পানিতে পরিপূর্ণ থাকে। পশ্চিমাঞ্চলীয় ইরানের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম হ্রদ এটি।

বলছিলাম ফাদাক পার্ক থেকে চোগা টিলাটি কাছেই।সুতরাং পার্ক থেকে বিনোদন টিলাটিতে যাওয়া যেতে পারে।যেহেতু টিলা মানে শহরের সবচেয়ে উঁচু এলাকা সেজন্য এই টিলাকে বমে বুরুজের্দ মানে বুরুজের্দ শহরের ছাদও বলা হয়ে থাকে। কেননা এখান থেকে পুরো শহরটিকে এক নজরে দেখতে পাওয়া যায়।টিলার ভেতরে চমৎকার ভাস্কর্য দেখতে পাওয়া যাবে।ওই ভাষ্কর্যটি অরাশ কামনগিরের বলে জানা যায়।তার পাশেই রয়েছে বিভিন্ন জন্তু জানোয়ারেরও ভাষ্কর্য।চোগা টিলার ওপর এই বিনোদন পার্কে পর্যটকদের রাত্রি যাপনের জন্য রয়েছে পরিচ্ছন্ন হোটেল, রয়েছে রেস্টুরেন্টও।মনে রাখা দরকার যে বুরুজের্দের কাবাব বেশ নামকরা এবং সুস্বাদু।

তবে আমাদের জানাশোনার মধ্যে যারা গেছেন এবং খেয়েছেন তারা বলেছেন সত্যি সত্যিই এমন মজা এবং সুস্বাদু যে এখনো যেন জিভে লেগে আছে স্বাদ। আগে যতরকমের কাবাবই খেয়েছি এখানকার কাবাব খাবার পর সেগুলোর স্বাদ ভুলে গেছি। এর একটা সম্ভাব্য কারণের কথাও তারা বলেছেন। তা হলো এখানকার কাবাবের গোশত একেবারে তরতাজা এবং শিকে কাবাব দেওয়ার প্রক্রিয়া আর গোশতকে বেরেশতা করার পরিমাণটাই ওই স্বাদ বৈচিত্র্যের মূল কারণ হতে পারে।

তো এখানে কাবাব টেস্ট করে যাওয়া যেতে পারে পাশ্ববর্তী জলাশয় দেখতে। বুরুজের্দ থেকে পণর কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত এই জলাশয়টির নাম হলো ‘বিশে দলন’। স্থানীয়রা অবশ্য এর উচ্চারণ করে থাকেন বিশে দলুন। এই জলাশয়ে বাস করে বিচিত্র পাখি। জলাশয়ের কিছু অংশ এখন শুকনো হয়ে গেছে। সেই অংশে বাস করে বহু রকমের প্রাণী। কৃষিকাজও করা হচ্ছে ওই শুকনো ভূমিতে।

লেখা: নাসির মাহমুদ এবং আবুসাঈদ। আরো দেখুন- ঢাকার রাস্তায় ইরানি ছবির শুটিংইরানি মুদ্রার নাম পরিবর্তন

1 মন্তব্য

Leave a Reply