আম

চলছে আমের মৌসুম। অত্যন্ত সুস্বাদু একটি মৌসুমি ফল আম। ছোট-বড় আমাদের সবারই খুব প্রিয় একটি ফল। আজ আমরা আম সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।

আমের খাদ্য উপাদান এবং খাদ্য গুণাবলি অপরিসীম। এটা এমন একটি ফল, যার খাদ্য গুণাগুণ আমাদের শরীরে সারা বছর প্রিজার্ভ থাকে। এক টুকরো মাঝারি সাইজের আম থেকে আমরা আমাদের দৈনন্দিন চাহিদার প্রায় এক চতুর্থাংশ ভিটামিন সি এবং দুই তৃতীয়াংশ ভিটামিন এ পেয়ে থাকি।

পুষ্টিবিদরা জানান , আমে আছে প্রচুর ভিটামিন কে, ভিটামিন ই, আয়রন ও পটাসিয়াম। আম অত্যন্ত আঁশবহুল ফল। এ কারণে কার্ডিয়াক পেশেন্ট বা ডায়াবেটিক পেশেন্টের জন্য পরিমিত মাত্রায় আম উপযোগী। অত্যন্ত আঁশ থাকার কারণে আম আমাদের রক্তে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এ ছাড়া বিভিন্ন ডাইজেস্টিভ ডিজিজ, যেমন—কোষ্ঠকাঠিন্য, অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রিক ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে আম যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে। আমে প্রচুর আয়রন ও ভিটামিন সি থাকার কারণে রক্তশূন্যতা রোধে আমের ভূমিকা অতুলনীয়। এমনকি আমাদের মধ্যে যেসব শিশুর একটু মেমোরি লস আছে, অথবা তারা পড়াশোনায় মনোযোগী নয়, তাদের মনোযোগ বৃদ্ধিতে আম যথেষ্ট পরিমাণ ভূমিকা পালন করে।

আম পোস্ট-মেনোপোজাল উইমেনদের জন্য, অর্থাৎ ৪০ থেকে ৪৫ বছরের বেশি নারীদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী একটি ফল, যা তাঁদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা থেকে রক্ষা করে। এ ছাড়া আমে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ডায়াবেটিক পেশেন্টদের ক্ষেত্রে তাঁরাও আম খেতে পারবেন। তবে খাওয়ার সাজেশন হবে, অর্ধেক আম এবং আমটা খেতে হবে দিনের বেলায়, সূর্য ডোবার পরে নয়। এ ছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের শরীরে বিভিন্ন ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে। দৈনন্দিন একজন সুস্থ নন-ডায়াবেটিক পেশেন্টের অন্তত মাঝারি সাইজের দুটো আম; আমের সিজনে তিনি খেতে পারেন।

তবে সূর্য ডোবার আগে যেকোনো মিষ্টিজাতীয় ফল যদি আমরা খাই, ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য সেটা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কম রেইজ করে সূর্য ডোবার পরের চেয়ে। আমটা খেতে হবে কোনো একটা মেইন মিলের সাথে, মানে সকালের নাশতা অথবা দুপুরের খাবারের সাথে।

আমের পটাসিয়াম আমাদের হাইপারটেনসিভ রোগীদের জন্য যথেষ্ট সহায়ক। এমনকি কিডনি পেশেন্ট, যাঁদের পটাসিয়ামের মাত্রা কম আছে, তাঁরাও আম খেতে পারেন। তবে অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে, যাঁদের রক্তে পটাসিয়ামের মাত্রা বেশি, তাঁদের আম একটু পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে।

আরো পড়ুন- মুলার যত উপকারিতা