অমর একুশে

বৈশ্বিক মহামারির কারণে এবার ‘অমর একুশে বই মেলা’র ৩৭ তম আসর ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে মার্চ মাসে শুরু হচ্ছে। এবারের বই মেলার মূল থিম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) শুরু হয়ে বই মেলা চলবে ১৪ই এপ্রিল পর্যন্ত। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এবারের বই মেলা উৎসর্গিত হচ্ছে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে।

করোনার কারনে এবারের বই মেলায় মাস্ক ছাড়া প্রবেশ করা যাবে না। মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) বই মেলা আয়োজনের বিস্তারিত তুলে ধরে বাংলা একাডেমি জানায়, ১৮ মার্চ বিকেল ৩টায় বই মেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বই মেলায় যা থাকছে

এবার বই মেলা অনুষ্ঠিত হবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ১৫ লাখ বর্গফুট জায়গায়। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০৭টি প্রতিষ্ঠানকে ১৫৪টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৩৩টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৮০টি ইউনিটসহ মোট ৫৪০টি প্রতিষ্ঠানকে ৮৩৪টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় ৩৩টি প্যাভিলিয়ন থাকবে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আকর্ষণ বঙ্গবন্ধুর নতুন বই

এবারের অমর একুশে বই মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ বঙ্গবন্ধু রচিত ও বাংলা একাডেমি প্রকাশিত আমার দেখা নয়াচীন-এর ইংরেজি অনুবাদের আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করবেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২০ প্রদান করা হবে।

থাকছে না শিশুপ্রহর

এবারও মেলায় শিশুদের চত্বর থাকছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। তবে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার প্রথমদিকে শিশু প্রহর থাছে না বলে জানিয়েছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী। মেলা চলাকালীন সময়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত শিশু প্রহর থাকে।

লিটল ম্যাগ চত্বর এবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

এবার লিটল ম্যাগাজিন চত্বর স্থানান্তরিত হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মূল মেলা প্রাঙ্গণে। সেখানে ১৩৫টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দের পাশাপাশি ৫টি উন্মুক্ত স্টলসহ ১৪০টি স্টল দেওয়া হয়েছে।

মোড়ক উন্মোচনের স্থানও উদ্যানে

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলা একাডেমি।

রমনা পার্কের প্রান্তে প্রবেশপথ

এবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্ব পাশে নতুন একটি প্রবেশ পথ করা হয়েছে। প্রকাশকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল রমনা প্রান্তে একটি প্রবেশ পথ ও পার্কিং-এর ব্যবস্থা করা। যার ফলে ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটের পাশ দিয়ে অতিথিরা প্রবেশ করতে পারবেন। সবমিলে সোহরাওয়ার্দীতে ৩টি প্রবেশ পথ ও ৩টি বাহির হওয়ার পথ থাকবে।

প্রবেশ পথে থাকবে ছাউনি ও উদ্যানে আশ্রয়কেন্দ্র

প্রত্যেক প্রবেশ পথে সুরক্ষিত ছাউনি থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলা একডেমি। এতে বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে মানুষ আশ্রয় নিতে পারেন। এছাড়া বৃষ্টি ও ঝড়ের আশংকা বিবেচনায় রেখে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৪টি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বই মেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশ, র্যা ব, আনসার, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ ৩ শতাধিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্টল বিন্যাসে পরিবর্তন এসেছে

মেলার বিন্যাসে মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৩টি প্রবেশ পথ থাকবে। ৩টি প্রবেশপথ বিবেচনায় রেখে স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলো এমনভাবে বিন্যাস করা হয়েছে যাতে কোন এলাকা প্রান্তিক বা অবহেলিত বলে প্রতীয়মান না হয়।

মেলার সার্বিক ডিজাইনার স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝর জানান, বিন্যাসের দিক থেকে প্রত্যকটা গ্রুপের মধ্যে যেখানে স্টল থাকার সেখানে স্টলই আছে, যেখানে প্যাভেলিয়ন সেখানে প্যাভেলিয়নই আছে। কোন রকম মিশ্রনের মধ্যে যাইনি। বাংলা বর্ণমালায় গ্রুপের নাম ভাগ করা আছে। বৃত্তাকারে ঘুরলে সবজায়গায় যেতে পারবে মানুষ। এবার আমরা অলংকরণের চেয়ে কাঠামোর দিকে গুরুত্ব দিয়েছি।

আরো পড়ুন- ১০ দিনব্যাপী ‘মুজিব চিরন্তন’ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বর্ণিল সূচনা জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে

বাংলা একাডেমি জানায়, এবার খুবই ভারসাম্যপূর্ণ নকশা করা হয়েছে। এবার মেলা মাঠের তিন কোণায় তিনটি প্রশস্ত প্রবেশপথ হওয়ার কারণে যেকোনো মানুষকে প্যাভিলিয়নে আসতে হলে স্টলগুলো ছুঁয়ে আসতে হবে।

*সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে এবারও থাকছে দুটি ফুডকোর্ট।

বই মেলার সময়সূচি

ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ছুটির দিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা চলবে বই মেলা।