আওয়ামী লীগের জন্মদিন আজ

আওয়ামী লীগের জন্মদিন
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় (ছবি সংগৃহীত)

জন্মের পর থেকেই আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ সময়ই গেছে লড়াই-সংগ্রামে। এরই মধ্যে ৭১ বছর পূর্ণ করল দলটি । ১৯৪৯ সালের এই দিনে পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনে এক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে জন্ম হয় দলটির। প্রতিষ্ঠাকালীন এর নাম ছিল আওয়ামী মুসলিম লীগ। পরবর্তী সময়ে নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে নাম হয় আওয়ামী লীগ।

প্রতিষ্ঠার শুরুতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ছিলেন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শামসুল হকের মতো প্রথিতযশা নেতারা।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ৬৬-এর ৬ দফা, ৬৯-এর গণআন্দোলন । সংগ্রাম ও সাফল্যের ৭১ বছর পূর্তিতে সীমিত আয়োজনে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হবে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে জনসমাগমের কর্মসূচি এড়িয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে কিছু অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হতে যাচ্ছে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

আওয়ামী লীগের মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে বাংলার জনগণকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে স্বাধিকার আদায়ের জন্য ঐতিহাসিক ৬ দফা ঘোষণা করেন। সেই ৬ দফা আন্দোলনের , ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচনে বাঙালির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ ও ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সফল নায়ক ছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সভাপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর অস্তিত্ব সংকটে পড়ে দলটি । দলে শুরু হয় ভাঙন। এরমধ্যে আব্দুল মালেক উকিল-জোহরা তাজউদ্দীনের দৃঢ়তায় সংকট কাটিয়ে উঠতে শুরু করে দলটি। ১৯৮১ সালে দলের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর দেশে ফিরতে সক্ষম হন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর দলকে সংগঠিত করেন তিনি। স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনও হয় তার নেতৃত্বে। ১৯৯৬ সালে ২১ বছর পর সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আবার সরকার গঠন করে দলটি। তখন থেকে টানা তিন মেয়াদে সরকারে রয়েছে আওয়ামী লীগ।

২০১৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। তারই নেতৃত্বে চার দফায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার সুযোগ পায়।

এ বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী হওয়ায় দিবসটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দলটির প্রত্যাশা ছিল জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে  দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করার; কিন্তু এ বছর মহামারি করোনার কারণে সৃষ্ট সংকটে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে সব ধরনের জনসমাগমপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিহার করা হয়েছে। এ বছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সাজসজ্জা ও অন্যান্য কর্মসূচির খরচ বাঁচিয়ে তা মানুষের কল্যাণে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি ।

কর্মসূচি

দেশবাসীকে ঐতিহাসিক ২৩ জুনে সীমিত পরিসরে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ বাঙালি জাতির স্বাধীনতা, মুক্তি, গণতন্ত্র ও প্রগতি প্রতিষ্ঠায় আত্মদানকারী দেশমাতৃকার সব শহীদের আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করে পরম করুণাময়ের নিকট প্রার্থনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।

দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার গৌরবোজ্জ্বল ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

আরো পড়ুন-  মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগ নেতার করোনায় মৃত্যু

Leave a Reply